উত্তরঃ হ্যাঁ, বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বেশ কয়েকটি কয়লাক্ষেত্রে উত্তোলনযোগ্য পরিমাণে কয়লা আছে। এছাড়া দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, পূর্ব-উত্তরাঞ্চলে পীট কয়লার মজুদ রয়েছে, তবে এসব সঞ্চয়ক্ষেত্রের বাণিজ্যিক উত্তোলনযোগ্যতা নিরূপিত হয়নি।
উত্তরঃ উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের এ কয়লার মান সাধারণভাবে যথেষ্ট ভালো, এ কয়লা উন্নত মানের। এটি বিটুমিনাস ধরনের কালো কয়লা, যা উচ্চ তাপজ্বলন ক্ষমতা সম্পন্ন (গড়ে ৬,৬০০ কিলোক্যালরী/কেজি), কম ছাই বা অ্যাশ (১২-১৫%) ও কম গন্ধক বা সালফার (১% এর কম) যুক্ত।
উত্তরঃ দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়াতে একটি ভূগর্ভস্থ কয়লা খনি রয়েছে, যার উন্নয়ন ১৯৯৪ ইং সালে শুরু হয়ে ২০০৫ এর শেষের দিকে আংশিক বাণিজ্যিক উৎপাদন আরম্ভ হয়। এর উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ১০ লাখ টন, তবে পত্রিকান্তরে জানা যায় যে বর্তমানে তা লক্ষ্যমাত্রার থেকে অনেক কম উৎপাদন করছে এবং নানাবিধ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা জটিলতায় এ যাবত কখনও এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
উত্তরঃ হ্যাঁ, বর্তমানে ফুলবাড়ীতে এবং ভবিষ্যতে খালাসপীর, দীঘিপাড়া এবং জামালগঞ্জে কয়লা খনি উন্নয়নের সম্ভাবনা আছে।
উত্তরঃ বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উপর নির্ভর করে এর পাশেই ২৫০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নানা কারিগরী জটিলতায় কয়লা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষিতে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুত প্ল্যান্টের উৎপাদনও মাঝে মাঝে বিঘ্নিত হয়। ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানী করা কয়লা প্রধানতঃ দেশের ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যও সীমিত পরিমাণে কয়লা ভারত থেকে আমদানী করা হয়। কয়লা নির্ভরযোগ্য জ্বালানী হিসেবে অন্যান্য শিল্প কারখানাতেও ব্যবহৃত হয়। নিশ্চিত ও সুলভে পাওয়া গেলে এদেশেও বিভিন্ন শিল্পে কয়লা ব্যবহৃত হবে।
উত্তরঃ এ কয়লা প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। বিদ্যুত উৎপাদনে এর প্রধান ব্যবহার, একই সাথে ইটের ভাটায় ও গৃহস্থালী কাজে ব্রিকেট হিসেবে এর ব্যবহার হতে পারে। বাংলাদেশের কয়লার প্রায় এক চতুর্থাংশ ‘সেমি সফ্ট কোকিং কোল’ যা ইস্পাত শিল্পে ব্যবহার উপযোগী। দেশে সে ধরনের ইস্পাত শিল্প না থাকলে এ কয়লা রপ্তানী করা যেতে পারে।
উত্তরঃ ফুলবাড়ী কয়লা খনির উৎপাদিত তিন মিলিয়ন টন কয়লা ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুত কেন্দ্রের এক বছরের চাহিদা মেটাবে। এশিয়া এনার্জি খনিমুখে ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লা খনি নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে, যার ক্ষমতা ২০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
ফুলবাড়ী খনি থেকে বছরে ১২ মিলিয়ন টন তাপীয় কয়লা উৎপাদিত হবে। এই কয়লা ৩০ বছর পর্যন্ত ৪,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। খনি থেকে উৎপাদিত বাকি কয়লা হচ্ছে সেমি সফ্ট কোকিং কোল।
উত্তরঃ যে কোন জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ালেই পরিবেশ দূষণ হতে পারে, এর মাত্রা ও পরিমাণ নির্ভর করে জ্বালানীর মান ও পোড়ানোর প্রযুক্তির উপর। বর্তমানে প্রযুক্তিগত অনেক উন্নতি হয়েছে (ক্লিন কোল টেকনোলজি) এবং কয়লা ভিত্তিক বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রায় দূষণমুক্ত অথবা দূষণ সীমিত ও গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। বর্তমানে আমদানীকৃত ভারতীয় কয়লার তুলনায় বড়পুকুরিয়া ও ফুলবাড়ীর কয়লা তাপীয়মান ও সালফার এবং ছাই বা অ্যাশ বিচারে এতটাই ভালো যে, তা ইট শিল্প কর্তৃক বর্তমানে সৃষ্ট দূষণ মাত্রাকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করতে সক্ষম হবে।
উত্তরঃ খুবই জরুরী। কয়লা আল্লাহর দেয়া একটি নিয়ামত, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি আশির্বাদ। শুধু একক জ্বালানী (যেমন গ্যাস) নির্ভর হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যেখানে গ্যাসের সঞ্চয়ের পরিমাণও সীমিত। তাই প্রাপ্ত কয়লা সম্পদের দ্রুত ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, এতে করে বিদ্যুৎ সরবরাহে উন্নতি হবে, আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে এবং জ্বালানী গ্যাসের উপর চাপ কমবে।
উত্তরঃ ১৯৯৮ ইং থেকে।
উত্তরঃ না। তবে এশিয়া এনার্জি’র মালিক কোম্পানী লন্ডনভিত্তিক জিসিএম রিসোর্সেস পিএলসি (জিসিএম) এর বাংলাদেশের টেলিফোন কোম্পানী ‘পিপলসটেল’ এর ৩৭% মত অংশীদারীত্ব রয়েছে। তাছাড়া কোম্পানীটির দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অন্যান্য দেশে খনি শিল্পে বিনিয়োগ রয়েছে।
উত্তরঃ এশিয়া এনার্জি নামে করেনি, তবে এর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন তাদের আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে উন্মুক্ত কয়লা খনিতে কাজ করার শতাধিক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে এশিয়া এনার্জি’র মালিক কোম্পানী জিসিএম দক্ষিণ আফ্রিকায় বাস্তবায়নাধীন কয়লা প্রকল্পে কাজ করছে।
উত্তরঃ সরকারের সাথে এশিয়া এনার্জি’র ‘বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নের’ চুক্তি রয়েছে।
উত্তরঃ এটি অষ্ট্রেলিয়ান কোম্পানী। তবে এর মালিক কোম্পানী ‘জিসিএম’ একটি ব্রিটিশ কোম্পানী। বাংলাদেশের বিদ্যমান কোম্পানী আইন অনুযায়ী ‘এশিয়া এনার্জি’ একটি নিবন্ধিত ও আইনানুগভাবে পরিচালিত কোম্পানী।
উত্তরঃ হ্যাঁ। এ কোম্পানী বাংলাদেশে তার কার্যক্রম দেশের বাইরে থেকে আনা সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিলের যোগান থেকে করে থাকে। দেশের আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরে, কোম্পানীটি একটি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত।
উত্তরঃ এশিয়া এনার্জি অনুমোদনের জন্য চেষ্টা করবে এবং সরকারের সাথে এলক্ষ্যে একযোগে কাজ করবে।
উত্তরঃ খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও এর উন্নয়ন সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। তদুপরি দীর্ঘমেয়াদে খনি শিল্পে বিনিয়োগ উচ্চমাত্রায় বিনিয়োগ ঝুঁকির বিষয়। এশিয়া এনার্জি আশা করে সরকার প্রকল্পের অনুমোদন দেবেন এবং এশিয়া এনার্জি বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় সম্প্রদায়সহ অন্যান্য অংশীদারদের সহযোগিতায় পরিবেশ সম্মত ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে। এ প্রকল্প বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘জ্বালানীর অভাব জনিত সমস্যা’ নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্প সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত ও পরিচালিত হলে তা কোম্পানী ও বাংলাদেশের উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।
উত্তরঃ তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব, তবে বাস্তবে তা কঠিন। বিনিয়োগ ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও অর্থায়ন (শুরুতেই ১.৩ বিলিয়ন ডলার বা ৯ হাজার কোটি টাকার মতো) খুব বড় বাধা, আর এ কারণে বিদেশী বিনিয়োগ ও বিদেশী সংস্থার সাথে দেশের প্রচলিত আইনানুসারে দু’পক্ষের জন্যই গ্রহণযোগ্য ও লাভজনক আয়োজনের মাধ্যমে এ রকম প্রকল্প বাস্তবায়ন বাঞ্চনীয়। দেশী প্রতিষ্ঠানের এখন অবধি এ জাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের মত আর্থিক, কারিগরী ও ব্যবস্থাপনা সামর্থ অনুপস্থিত। সার্বিকভাবে, ফুলবাড়ী প্রকল্পের মত আন্তর্জাতিক মানের প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় সামর্থন গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
উত্তরঃ প্রথমতঃ এশিয়া এনার্জির নিজস্ব অঙ্গীকার এবং সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা। এশিয়া এনার্জি দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এবং স্থানীয়দের সাথেই থাকবে, ফলে স্থানীয় মানুষের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করে তাদের পক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবেনা। এ প্রকল্পের অর্থায়নে যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভূমিকা রাখবে, তারা এশিয়া এনার্জি’র কাজ পর্যবেক্ষণ করবে এবং এশিয়া এনার্জি সবকিছু যথাযথভাবে করতে তাদের কাছেও দায়বদ্ধ। অন্যথায় অর্থায়ন বন্ধ হয়ে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে, যা কারুর জন্যই কাম্য নয়। একইভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন সময়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। সর্বোপরি বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় মানুষ, প্রতিষ্ঠানসমুহ এশিয়া এনার্জি’র কাজ পর্যবেক্ষণ করে তা যথাযথ থাকার ব্যাপারে পরামর্শ, নির্দেশ, সহযোগিতা প্রদান করতে পারবে।
উত্তরঃ ফুলবাড়ী প্রকল্পে পর্যায়ক্রমে খনির ৩৫ বছরের অধিক সময়কালে প্রায় ৫,৯০০ হেক্টর (একক সময়ে সর্বোচ্চ ২,০০০ হেক্টর) জমির এবং প্রায় ৪০,০০০ মানুষের পুনঃস্থাপনের/পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে। যমুনা সেতু প্রকল্প, তিস্তা বাঁধ প্রকল্প, গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পে বড় ধরনের জমি অধিগ্রহণ এবং ফুলবাড়ী প্রকল্পের তুলনায় বেশী সংখ্যায় মানুষের স্থানান্তর করার উদাহরণ রয়েছে। ভবিষ্যতে পদ্মা সেতুর জন্য বড় ধরনের জমির এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের স্থানান্তর প্রয়োজন হবে।
উত্তরঃ বাংলাদেশ সাধারণভাবে বর্ষা মৌসুমে বন্যা প্রবণ এলাকা হলেও ফুলবাড়ী প্রকল্প এলাকা সাধারণভাবে বন্যামুক্ত এলাকা। অঞ্চলটি উচুঁ বরেন্দ্র ভূমির অংশ বিশেষ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০ মিটারের মতো উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে বড় কোন নদী নেই। ফুলবাড়ী শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত ছোট নদী ‘ছোট যমুনা’ এ অঞ্চলের প্রধান নদী, যা শুষ্ক মৌসুমে প্রায় সম্পূর্ণভাবে শুকনো থাকে। এ অঞ্চলে ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প বাস্তবায়ন ভালভাবে সম্ভব।
উত্তরঃ বৃষ্টির সময় খনিখাদে জমা হওয়া বৃষ্টির পানি পাম্পের সাহায্যে উত্তোলন করে যথাযথভাবে অপসারণ করা হবে। আসলে বৃষ্টির পানি নয়, উন্মুক্ত খনন পদ্ধতির খনি পরিচালনার জন্য খনিখাদ শুকনো রাখতে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে অনেক বড় কাজ। এ কাজ খনির গোটা জীবনকাল ধরে চলতে থাকবে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মত বৃষ্টি প্রবণ এলাকায় অনেক উন্মুক্ত কয়লা খনি সফলভাবে কাজ করছে।
উত্তরঃ এ প্রকল্পটি কোন সাধারণ শিল্প কারখানা বা গৃহায়ন প্রকল্প নয়, যা এক জায়গার বদলে অন্য জায়গায় সরিয়ে করা যায়। কয়লা সম্পদ ওখানকার মাটির নীচে রয়েছে, ফলে ওখান থেকেই তা আহরণ করতে হবে।
উত্তরঃ ভূতাত্ত্বিক গঠন, কয়লাস্তরের অবস্থান ও গভীরতা, উপরিস্থিত শিলাস্তর ও পানিবাহি স্তরের ধরণ, কয়লাস্তরের সংখ্যা ও পুরুত্ব, সম্পদ আহরণ, খনি ও শ্রম নিরাপত্তা ও আর্থিক উপযোগিতা ইত্যাদিসহ বিভিন্ন বিষয় খনি পদ্ধতির ধরণ নির্ধারণ করে। ফুলবাড়ী প্রকল্প এলাকায় পরিচালিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা থেকে বেরিয়ে এসেছে যে, ভূতাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত বিচারে এখানে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতির খনি সর্বোত্তম এবং এখানে বড়পুকুরিয়ার মতো খনি করা সম্পদ আহরণ, খনি ও শ্রম নিরাপত্তাসহ কোন বিচারেই যথাযথ হবেনা। বর্তমান পদ্ধতিতে বড়পুকুরিয়াতে মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন টন কয়লার মাত্র ২০-২৫ মিলিয়ন টন আহরণ সম্ভব, সেখানে ফুলবাড়ীতে মজুদ ৫৭২ মিলিয়ন টন কয়লার ৫০০ মিলিয়ন টনের বেশী আহরণ করা যাবে। এ ছাড়াও উন্মুক্ত খনন পদ্ধতির খনির কারণে সম্ভাব্য সকল মূল্যবান সহ-সম্পদ যেমনঃ- কাঁচ-বালি, চীনামাটি, নুড়িপাথর ও কঠিন শিলা উত্তোলন করা সম্ভব। তাছাড়া ভূতাত্ত্বিক বিশেষত্বের কারণে ভূগর্ভস্থ খনন পদ্ধতি ঐ অঞ্চলে অনেক বেশী ব্যয়বহুল যা চূড়ান্ত বিচারে উত্তোলিত কয়লাকে আর্থিকভাবে অনাকর্ষণীয় পণ্যে রূপান্তর করবে।
উত্তরঃ তুলনামূলকভাবে এবং সাময়িকভাবে বেশী লাগে, তবে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতির খনিতে জমি পুনর্বাসিত হয়ে প্রাকৃতিক অবস্থায় ফেরত আনা হয় এবং কৃষি, বন ইত্যাদিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমি ব্যবহারে তা কাজে লাগে। উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি আসলে ‘সাময়িক ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন’, ভূমির কোন স্থায়ী লোকসান নয়।
উত্তরঃ পড়বে, তবে তা সহনীয় ও গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রাখা হবে। যে কোন শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেই পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে। সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রেখে এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা খনি উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোন প্রতিকূল প্রভাব প্রশমণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবেশকে আরো উন্নত করা হবে। উদাহরণস্বরূপ খনি হতে বিশুদ্ধ পানি উত্তোলন করে তা সেচকাজ এবং শহর ও গ্রামের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা, প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ভূমিতে পুনঃপ্রবেশ (ইনজেক্ট) ঘটানো, এবং খনিখাদ পুনর্ভরণের পর পুনরায় সেখানে বনায়ন ও বৃক্ষ রোপণ কাজ পরিচালনা করা হবে। অবশ্য কোন গুরুত্বপূর্ণ শালবন কিংবা বাস্তুসংস্থানের জন্য সংবেদনশীল কোন বিল (প্রাকৃতিক জলাশয়) খনি এলাকার মধ্যে অবস্থিত নয়।
উত্তরঃ চেষ্টা করা হবে যত কম গাছ কাটা যায় এবং যত দেরীতে কাটা যায়। খনির প্রয়োজনে গাছ কাটার কাজ হবে পর্যায়ক্রমিক। যে সব গাছ কাটা পড়বে তার আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পরিবেশগত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। খনির চারপাশের বাঁধ ও বাফার এলাকায় বন সৃজন করা হবে, আচ্ছাদন শিলাস্তুপ (ওভার বারডেন ডাম্প) এলাকায় বনাঞ্চল সৃষ্টি করা হবে এবং পুনর্বাসিত এলাকাতেও গাছপালা লাগানো হবে। একইসাথে বৃহত্তর এলাকায় সবুজের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য চারা সরবরাহসহ বৃক্ষায়নে উৎসাহজনক ও সমর্থনসূচক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
উত্তরঃ স্বাভাবিক অভ্যাসগত প্রাপ্যতার কিছু সাময়িক অসুবিধা হতে পারে, তবে পানির অভাব হবেনা। পৃথিবীর অনেক উন্মুক্ত খনি ব্যবস্থাপনার মত এখানেও খনি হতে উত্তোলিত পানি গ্রামসমূহে গৃহস্থালী কাজে ও সেচ কাজের জন্য ব্যবহৃত হবে। এশিয়া এনার্জি মোট ২৫০ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ পানির লাইন (পাইপ) স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণ পানি ভূ-গর্ভের পানি স্তরে পুনরায় প্রবেশ (ইনজেক্ট) ঘটিয়ে খনির প্রভাবিত এলাকার বাইরের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক রাখা হবে। এটি একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত খনির পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি।
উত্তরঃ কয়লা প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্টে পানির ব্যবহার হবে। যথাসম্ভব এ পানি পুনর্ব্যবহার করা হবে এবং অবশেষে বর্জ্য পানি উপযুক্ত পরিশোধন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিশোধিত করে দেশের পরিবেশগত মানমাত্রা অনুসারে অবমুক্ত করা হবে। কয়লা প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট, প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক সন্নিহিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ শিল্পে ব্যবহারের পানিও খনির জন্য উত্তোলিত পানি থেকে যোগান দেয়া হবে।
উত্তরঃ খনির কার্যক্রম চলার সময় এক অংশে কয়লা তোলার কাজ, এক অংশে ভূমি পুনর্বাসনের কাজ এবং এক অংশে খনির জন্য মাটি খোড়ার কাজ চলতে থাকবে। খনির জন্য ব্যবহৃত জমির প্রায় সবটুকুই পুরোপুরি পুনর্বাসিত হবে এবং একেবারে দক্ষিণে প্রায় ৭০০ হেক্টরের একটি মিঠাপানির জলাশয় থাকবে। তবে এ জলাশয় খনির আয়ুকালের শেষের বছরগুলোতে (প্রায় ৩০ বছর পর) তৈরী হবে। পুনর্বাসিত জমি কৃষি থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভিন্ন ভূমি ব্যবহারে কাজে লাগবে।
উত্তরঃ খনি এলাকায় প্রধানতঃ চাষাবাদের জমি রয়েছে এবং জলাভূমির পরিমাণ সামান্য। এ অঞ্চলের প্রধান জলাভূমি (আশুরার বিল) খনি প্রকল্প এলাকার বেশ বাইরে। অন্যান্য যেসব ছোট বিল বা জলাভূমি দক্ষিণ পশ্চিম এলাকায় পড়েছে, তাদেরকে সংরক্ষণ করে প্রকল্পের কাজ করা হবে। এলাকার মাছ চাষ বৃদ্ধির জন্য বিকল্প অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে খনি এলাকার বাইরে মাছচাষকে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রকল্প থেকে সহযোগিতা প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলক প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয়দের সাথে খনি সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাছ চাষ বৃদ্ধির নানামুখী উদ্যোগ পরিচালনা করা ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক তৎপরতা পর্যালোচিত হয়েছে।
উত্তরঃ তাদের বর্তমান বাজারমূল্যে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিকল্প টেকসই জীবিকাসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পশ্চিম ফুলবাড়ীতে পরিকল্পিত নতুন শহর ও প্রকল্প এলাকার চারপাশে নতুন নতুন গ্রাম তৈরী করা হবে। খনির প্রভাব এলাকার মানুষের জীবিকা পুনর্বাসন ও বহুমুখীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে।
উত্তরঃ সাধারণভাবে অনেকে জানেন, তবে প্রত্যেকে সঠিকভাবে জানেন এ কথা বলা যাবেনা। তবে পুনর্বাসনের অনেক আগেই এরা প্রত্যেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানবেন এবং কাউকেই যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ও পরিবর্তিত জীবন ব্যবস্থার ধারণা ছাড়া তার বর্তমান আবাস ও অবস্থান থেকে স্থানান্তর করা হবে না।
উত্তরঃ হ্যাঁ, এ সমস্যা আদিবাসীদের মধ্যে যেমন, তেমনি বেশ কিছু বাঙালী পরিবারেরও রয়েছে। তবে এদেরকে যথাযথভাবে প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এরা তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের সুবিধাদি পাবেন। আদিবাসীদের বিষয়টি অধিকতর সংবেদনশীল হওয়ায়, তাদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে এবং একটি ‘আদিবাসী উন্নয়ন পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের জন্য তৈরী করা আছে ।
উত্তরঃ এ লক্ষ্যে পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসাবে জীবিকা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে যা পর্যায়ক্রমে আরো বিস্তারিতভাবে প্রতি পুনর্বাসন পর্যায়ের মানুষের জন্য প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করা হবে।
উত্তরঃ বাস্তবিকভাবেই কর্মী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। খনির কাজে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করারও উদ্যোগ নেয়া হবে।
উত্তরঃ খনির কার্যক্রম চলাকালীন প্রত্যক্ষভাবে স্বল্পমেয়াদী ২,১০০টি এবং দীর্ঘমেয়াদী ১,২০০টি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এ ছাড়াও খনি সহযোগী যে সকল শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে সেখানে হাজারো কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। প্রকল্পের প্রত্যেক প্রত্যক্ষ জনশক্তির বিপরীতে পরোক্ষভাবে আরো ৮-১০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে, ফলে আশা করা যায় খনি ও খনি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর জন্য প্রায় ১৭,০০০ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কয়লা পরিবহনের ফলে বাংলাদেশ রেলওয়েতেও আরো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং খুলনায় কয়লা টার্মিনালে বার্জিং ও শিপিং-এর জন্য প্রত্যক্ষভাবে ৮০০ নতুন কর্মসংস্থান তৈরী হবে। প্রকল্পের কারণে আরো অনেক সহায়ক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটাবে, হাজারো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।
উত্তরঃ খনির জন্য ধাপে ধাপে ভূমি ব্যবহারের ফলে একসাথে কম কৃষিজমি ব্যবহৃত হবে। একটি পৃথক গবেষণায় দেখা যায় যে, পুনর্বাসনকৃত জমি ও খনির পার্শ্ববর্তী এলাকার জমিতে কৃষিকাজে উন্নত পদ্ধতি প্রয়োগে দক্ষভাবে চাষাবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি উৎপাদন ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে কৃষি উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করা যাবে। এর বিস্তারিত ‘কৃষির উপর খনির প্রভাব’ প্রতিবেদনে দেখা যেতে পারে।
উত্তরঃ প্রকল্প এলাকাকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী এলাকায় রূপান্তর এবং উন্নত অবকাঠামো ও নতুন সুবিধাসমূহ যেমন উন্নত স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বাজারঘাট, কৃষি ব্যবস্থা, শিল্প কারখানা ইত্যাদি প্রদান করে অত্র এলাকার সকল মানুষের জীবন ব্যবস্থার একটি সার্বিক টেকসই উন্নয়ন অর্জনই প্রধান লক্ষ্য।
উত্তরঃ ৬% রয়্যালটি, দেশের বিদ্যমান খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিতে নির্ধারিত। এই রয়্যালটি সাধারণভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই। তবে রয়্যালটি হচ্ছে খনি থেকে দেশের পুরো মুনাফার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। এই রয়্যালটির সাথে যুক্ত হবে করপোরেট ট্যাক্স (৪৫%), আমদানী শুল্ক (২.৫%), উইথ হোল্ডিং ট্যাক্স অন ডিভিডেন্ড (৫%), পরিবহন মাশুল, বন্দর চার্জ ইত্যাদি। আর এই সব সমেত বাংলাদেশ খনির পুরো মেয়াদকালে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশী আয় করবে। এখানে উল্লেখ্য যে, তেল গ্যাস খাতের প্রকল্পগুলোর মতো এই প্রকল্পে খরচ উশুল-জাতীয় (কস্ট রিকাভারি) কোন ব্যাপার নেই।
উত্তরঃ হ্যাঁ, তবে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং খনির মেয়াদকালে সবসময়ই এটা চলতে থাকবে। এর বিস্তারিত ‘পাবলিক কনসাল্টেশন এবং ডিসক্লোজার প্লান’ এ দেখা যেতে পারে।
উত্তরঃ আমদানী শুল্ক, ট্যাক্স ও রয়্যালটির প্রত্যক্ষ আয় ছাড়াও খনি প্রকল্পটি দেশকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সাশ্রয়ী নতুন জ্বালানী উপহার দেবে। একমাত্র এই একটি খনিই সারা বাংলাদেশের জন্য অন্ততঃ ৩০ বছরের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানীর নিরাপত্তা দিতে পারে। এই কয়লা বাংলাদেশে সীমিত প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর চাপ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কল-কারখানা ও গৃহস্থালীতে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে পারে। এই প্রকল্পটি অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশের একটি অনগ্রসর এলাকাকে গড়ে তুলবে একটি খনি ও শিল্প এলাকা হিসেবে। এটি কেবল একটি খনি নয়, এটি একটি ‘সুযোগ’, যা দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার বড় ধরণের ইতিবাচক রূপান্তর ঘটাতে সাহায্য করবে।
উত্তরঃ প্রধানতঃ দেশের ও মানুষের ক্ষতি। কেননা এ প্রকল্প দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করবে যা দেশের ও মানুষের কাজে লাগবে। এ প্রকল্প যেহেতু দেশের জ্বালানী সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তাই এ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হলে জ্বালানী প্রাপ্যতা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ লক্ষ্য পূরণে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে। তদুপরি এ প্রকল্প উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থা ও ভাগ্যোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এর বাস্তবায়ন না হলে দারিদ্র একইভাবে চলতে থাকার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নতি ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হবার আশংকা রয়েছে । তাছাড়া জ্বালানীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দেশকে ক্রমেই বেশী বেশী জ্বালানী আমদানী অব্যাহত রাখতে হবে। এ খনি বাস্তবায়ন না হলে নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানী সুলভে স্থানীয় উৎস থেকে পাবার সুযোগ থেকে দেশ বঞ্চিত হবে। পক্ষান্তরে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল জ্বালানী আমদানী নির্ভরতা বাড়াবে।