ফুলবাড়ী কয়লা খনি থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতায় বছরে ১৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করতে হলে বিপুল ও ভারি যন্ত্রপাতি বিদেশে থেকে আমদানি করতে হবে। খনি মেয়াদকালে প্রতিবছরই এই আমদানি অব্যাহত রাখতে হবে নিরবিচ্ছিন্ন খনি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য। উৎপাদিত কয়লা দেশের বিদ্যুত উৎপাদন, শিল্পকারখানা, ইটভাটা ও ব্রিকেট তৈরির মাধ্যমে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের জন্য দেশজুড়ে বাজারজাত করার প্রয়োজন হবে। যন্ত্রপাতি আমদানি ও দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক বাজারে কয়লা সরবরাহের জন্য দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথের উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। একই কারণে বঙ্গোপসাগরের আকরাম পয়েন্টে গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে ওঠাসহ মংলাবন্দর গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফুলবাড়ী কয়লা খনি থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় পরিবহন করিডোর ব্যবহার করে কয়লা খুলনায় অনায়াসে নেয়া যাবে। বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে সড়ক পথে এ কয়লা দেশের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলে সরবরাহ সম্ভব হবে না। ফুলবাড়ী-খুলনা রেলপথ ব্যবহার এবং খুলনা থেকে বার্জে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চলে কয়লা পরিবহণের সুযোগ রয়েছে। বিপুল কয়লা ও কয়লা খনি পরিচালনায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি পরিবহনের ফলে বন্দর ও রেল কর্তৃপক্ষের জন্য এর অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বৃদ্ধির এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া ফুলবাড়ী খনিতে ইস্পাত শিল্পে ব্যবহার্য উচ্চ মূল্যের সেমি সফট কোকিং কোল জাতের কয়লা রয়েছে। এই কয়লার বাজার স্থানীয় পর্যায়ে না থাকায় তা আর্ন্তজাতিক বাজারে বাজারজাতের প্রয়োজন হলে পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল বন্দর অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে গোটা অঞ্চল অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হবে।