পুনঃস্থাপন ব্যবস্থাপনা
প্রকল্প বাস্তবায়নে ২,৩০০ আদিবাসী সহ প্রায় ৪২ হাজার জনগণকে পর্যায়ক্রমে পরিস্থাপন ও পুনর্বাসন করার প্রয়োজন হবে। পর্যায়ক্রমে প্রথম ১০ বছরে এ কাজ সম্পন্ন হবে। বিকল্প পুনর্বাসন ব্যবস্থা ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া কোন ব্যক্তিকে তার বর্তমান অবস্থান থেকে সরতে হবেনা।
এমনকি এ ধরনের বৃহদাকার প্রকল্পে ক্ষতিপ্রস্তদের অধিকার রক্ষায় বিদ্যমান আইন যথেষ্ট না হওয়ায় এশিয়া এনার্জি আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম রীতি-নীতি অনুসরণ করে পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার স্বীকৃত নির্দেশিকা অনুসারে ‘পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ’ (ইএসআইএ) এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের পুনঃস্থাপন পরিকল্পনা ও ক্ষতিপূরণ নিরূপণ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে প্রকল্প প্রভাবিত বা সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সবশ্রেণীর মানুষ মানসম্মত ক্ষতিপূরণ পাবেন ও পুনর্বাসিত হবেন। এতে প্রকল্প এলাকার মানুষের জীবনমান বর্তমানের চেয়ে কোনক্রমে অনুন্নত নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উন্নততর হবে।
কারা ক্ষতিপূরণ পাবেনঃ
ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প বাস্তবায়নকালে কৃষি-অকৃষি ভূমি, ব্যবসা-বাণিজ্য, অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ, ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ইত্যাদির ওপর প্রভাব পড়বে বিধায় বৈধ মালিকদের পাশাপাশি নির্ভরশীলরাও ক্ষতিপূরণের আওতায় আসবেন। এমনকি সরকারি সম্পত্তিতে অবৈধ বসবাসকারীরাও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না। প্রকল্পের পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনায় ক্ষতির প্রকারভেদে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্যদের শ্রেণী বিভাজন করা হয়েছেঃ
- ভূমি মালিক
- সামাজিকভাবে স্বীকৃত অথচ আইনগতভাবে অসমর্থিত দখলদার
- সরকারি জমির লীজ গ্রহিতা
- সরকারি জমিতে অননুমোদিত বসবাসকারী
- বর্গাচাষী
- ব্যক্তিগত জমিতে ভাড়াটে
- কৃষি শ্রমিক
- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক
- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী
- পুনঃবসতকারী সম্প্রদায়
- প্রতিবেশী এবং যারা পুনঃস্থাপনজনিত প্রভাবের আওতায় আসবে সেই গ্রহণকারী সম্প্রদায়
কি কি ক্ষতিপূরণের আওতায় আসবেঃ
- কৃষিজমি
- বসতবাড়ির জমি
- বাণিজ্যিক জমি
- ইজারা এবং বন্ধকী নেয়া জমি
- পুকুর ও মাছের মজুদ
- জমির অস্থায়ী ব্যবহার বা সাময়িক রাস্তাঘাটে ব্যবহৃত জমি
- ভবন ও অবকাঠামো
- ভাড়া করা বাসস্থান
- বার্ষিক ও মৌসুমী শস্য
- ব্যবসা-বাণিজ্যিক আয়
- শ্রমের মজুরী
- ধর্মীয় ও সামাজিক ভবন ও স্থাপনা
- কবর, কবরস্থান ও শ্মশানঘাট
- গ্রহণকারী সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব
- খনি এলাকার বাইরের ভবন ও কাঠামোর ক্ষতি (যদি হয়)
- অপ্রত্যাশিত প্রভাব
পুনর্বাসন ও পুনঃস্থাপন পরিকল্পনার বৈশিষ্ট্য
- সম্ভাব্য সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ন্যায্য, উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহযোগিতা প্রাপ্য হবেন ।
- জমি ও ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরণ মূল্য দেয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত বাজার ও প্রতিস্থাপন মূল্য নির্ধারণ করে প্রদান করা হবে।
- পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে কোম্পানী নির্ধারিত গ্রাম ও নতুন শহর কিংবা নিজস্ব পছন্দের জায়গা বেছে নেয়ার সুযোগ থাকবে।
- জমি ও সম্পদের ক্ষতিপূরণের সঙ্গে নিয়মিত আয়ের অস্থায়ী ক্ষতিজনিত এবং স্থানচ্যূতির কারণে পৃথক অনুদান দেয়া হবে।
- ঝুঁকিপ্রবণ গোষ্ঠি হিসাবে আদিবাসী, দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী, মহিলাপ্রধান, বৃদ্ধ ও অক্ষম পরিবারের জন্য অতিরিক্ত অনুদানের ব্যবস্থা থাকবে।
- পরিবার পুনর্বাসন তহবিলের আওতায় বার্ষিক প্রকল্প সহায়তা, পরিবার পুনর্বাসন অনুদান, চাষাবাদ ব্যহতিজনিত অনুদান দেয়া হবে।
- ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
- খনি প্রকল্পে ব্যবহারের পূর্ব পর্যন্ত সম্মত সময়ের জন্য চাষাবাদ সহ অন্যান্য কাজে সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবহার করা যাবে।
- জীবিকা পুনরুদ্ধার ব্যবস্থাপনার আওতায় কৃষি, মজুরী ও ব্যবসাভিত্তিক জীবিকা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কৃষিভিত্তিক জীবিকার ক্ষেত্রে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি সহায়তা, পশু চিকিৎসা, বাজারজাতকরণে সহায়তা ও ক্ষুদ্র আকারের ঋণ, মজুরিভিত্তিক জীবিকার ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, খনি ও খনি সংক্রান্ত কাজে চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান, ব্যবসার জন্য ঋণ প্রদান ও আয় সৃজনকারী অন্যান্য সহায়তা, ব্যবসাভিত্তিক জীবিকার ক্ষেত্রে দক্ষ কারিগরদের ব্যবসা বৃদ্ধি, স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ঋণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা হবে।
- পুনর্বাসন ও পুনঃস্থাপন কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানী একটি নিবেদিত পুনঃস্থাপন ও উন্নয়ন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করবে। পুনঃস্থাপন কার্যক্রম পরিচালনায় রিসেটেলমেন্ট স্টিয়ারিং কমিটি-আরএসসি, ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে লোকাল লিয়াজাঁ ফোরাম-এলএলএফ গঠন করা হবে এবং গ্রাম ও পরিবার পর্যায়কে এ কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য লিয়াজোঁ সহকারী-এলএ নিয়োগ দেয়া হবে।