ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্পের জন্য প্রায় ৫,৯৩৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে, এর প্রায় ৮০ শতাংশই (৪,৭৬২ হেক্টর) কৃষিজমি। কিন্তু এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া হবে পর্যায়ক্রমিক এবং খনি উন্নয়নকালে কোন পর্যায়েই এককালীন সর্বাধিক ২,০০০ হেক্টর এর বেশী জমি প্রয়োজন হবে না। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি কৃষি উৎপাদনে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। খনির কাজ শুরু হবার ৫ বছরের মধ্যে খননকৃত এলাকা পুনর্ভরণের কাজ আরম্ভ হবে এবং তা পর্যায়ক্রমিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বের উৎপাদনশীলতায় ফিরিয়ে আনা হবে। খনির পার্শ্ববর্তী শিলাস্তুপ এলাকাও পর্যায়ক্রমিকভাবে পুনর্বাসন করে বনায়ন সৃষ্টি করা হবে। বর্তমানে পৃথিবীতে খনি উৎপাদনে ব্যবহৃত জমির পুনর্বাসন অত্যন্ত সফলভাবে হয়ে আসছে এবং এশিয়া এনার্জি সর্বোত্তম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনেই খনি উন্নয়নে ব্যবহৃত জমি পুনর্বাসন করবে। এ অবস্থায় খনির জন্য ব্যবহৃত পুরো এলাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
প্রকল্পের কারণে এলাকার চাষযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ কমে গেলেও কৃষিই স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে থাকবে। এশিয়া এনার্জি’র ক্ষতিগ্রস্তদের জীবিকা পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে তাই কৃষিভিত্তিক জীবিকাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা, উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি বিষয়ে সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মধ্যে কৃষি উৎপাদন, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী পালন, মৎস্যচাষ, উচ্চফলনশীল ও আগাম অর্থকরী ফসল চাষ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং পুনঃস্থাপন জরিপের আওতায় প্রাপ্ত তথ্যকে ভিত্তি ধরে পর্যায়ক্রমে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী শহরের বর্ধিত পশ্চিম অংশে একটি পাইকারী বাজার প্রতিষ্ঠা করবে এবং কৃষকদের বাজার সংক্রান্ত তথ্য দিয়েও সহায়তা করবে। পুরো পরিবারের সদস্যরাও প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় আসবে এবং খামারে গবেষণা ও উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে যাতে কৃষকরা নিজেদের পারিপার্শ্বিক অবস্থায় উপযুক্ত উন্নত প্রযুক্তি বাছাইয়ের সুযোগ পান।
খনি থেকে উত্তোলিত পানির কিছু অংশ এলাকার কৃষিজমিতে সরবরাহ করা হবে এবং যেখানে প্রয়োজন ও সম্ভব, গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। সারাবছর পানির নিশ্চিত সরবরাহের ফলে কৃষকরা ৩টি ফসলও ফলাতে পারবেন, এতে উৎপাদন খরচ কমে কৃষি উৎপাদন বেড়ে যাবে।
এশিয়া এনার্জি’র উদ্যোগে ডঃ ক্রিস জোহানসেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ “কৃষিখাতে খনন কাজের সম্ভাব্য প্রভাবসমূহ” শীর্ষক এক বিশদ গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেন। গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, কৃষি উৎপাদনে ঘাটতি হবে খনন কাজ শুরুর পর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত, এবং লাভ-ক্ষতি সমান হবে ১৫ বছরের মধ্যে। উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে খনির চারপাশের জমি ও পুনর্বাসিত জমি থেকে বর্তমানে যে প্রান্তিক কৃষির চল রয়েছে, তার তুলনায় খনি চালু হবার ১৫ বছর পর থেকে মোটের উপর কৃষিতে লাভ হবে এবং খনির মেয়াদ শেষ নাগাদ এ লাভের পরিমাণ কমপক্ষে ১৫৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় দাঁড়াবে। ফলে বিদ্যমান অবস্থায় জমিতে যে উৎপাদন হচ্ছে এর চেয়ে খনি কার্যক্রমের পরে একই জমিতে উৎপাদন বেশী হবে।
এশিয়া এনার্জি স্থানীয় কৃষকদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক মৌসুম যাবৎ স্থানীয় সরকারী কৃষি ও মৎস্য বিভাগীয় কর্মকর্তা ও কর্মীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় এ কোম্পানী কৃষকদের সঙ্গে কাজ করেছে। শস্য বহুমুখীকরণ, উচ্চফলনশীল ও আগাম অর্থকরী ফসল চাষভিত্তিক নানা দিশারী প্রকল্প, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং মৎস্যজীবি পরিবারের মহিলাদের বিকল্প কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী পরিচালনা করা হয়েছে। কর্মসূচীতে স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায় এবং প্রকল্পভুক্ত কৃষকরা তাদের জমিতে উৎপাদন ও আয় দুইই বাড়াতে সক্ষম হন।