English

প্রস্তাবিত উন্মুক্ত পদ্ধতির ফুলবাড়ী কয়লা খনি

এশিয়া এনার্জি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার আওতায় ব্যাপক ভূতাত্ত্বিক ও ভূপদার্থিক জরিপের মাধ্যমে ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানমাত্রার স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসারে ৫৭২ মিলিয়ন টন উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লার মজুদ নিশ্চিত করেছে। একমাত্র উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিই এই কয়লা সম্পদ অর্থনৈতিক ও কারিগরী বিবেচনায় লাভজনকভাবে উত্তোলনের উপায় বলে চিহ্নিত করেন দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রটি গড়ে দৈর্ঘ্যে ৮ কিলোমিটার (উত্তর-দক্ষিণে) এবং প্রস্থে ৩ কিলোমিটার (পূর্ব-পশ্চিম) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং আবিষ্কৃত কয়লা দু’টি প্রধান স্তর বিশিষ্ট। কয়লা স্তরগুলোর মোট পুরুত্ব ১৫-৬৫ মিটার এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৫০-২৭০ মিটার গভীরে অবস্থিত। কয়লা সম্পদের উপরে প্রায় ১৬০ মিটার পুরুত্বের টারশিয়ারী সময়কালের বালি, পলি (সিল্ট), নুড়িপাথর ও কাদা এবং পারমিয়ান সময়কালের শিলাস্তর রয়েছে।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কিত সমীক্ষার পর স্পষ্ট হয়েছে যে, ফুলবাড়ীতে ভূ-গর্ভস্থ খনন পদ্ধতি অনিরাপদ ও অলাভজনক। এ পদ্ধতিতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বা তার চেয়ে কম সম্পদ উত্তোলন করা সম্ভব যা এটিকে একটি অলাভজনক প্রকল্পে পরিণত করবে এবং দেশের মূল্যবান সম্পদেরও অপচয় ঘটাবে। একই ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতায় ভূগর্ভস্থ খনির পূর্ব অভিজ্ঞতা খুব হতাশাব্যঞ্জক।

প্রধানতঃ ফুলবাড়ী অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক ও কারিগরী সীমাবদ্ধতাই উন্মুক্ত পদ্ধতির কয়লা খনিকে গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রে কয়লার মজুদ ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি হওয়ায় এবং বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক অবস্থায় উন্মুক্ত পদ্ধতিই হচ্ছে কয়লা উত্তোলনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পন্থা। এ পদ্ধতিতে ৯০ শতাংশেরও বেশী সম্পদ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উপায়ে উত্তোলন সম্ভব। উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে ব্যবহার উপযোগী কিছু সহ সম্পদ (কো প্রোডাক্ট) যেমনঃ চীনামাটি (কেওলিন ক্লে), কাঁচ বালি, নুড়ি পাথর ইত্যাদিও লাভজনক উপায়ে উত্তোলন সম্ভব।

কয়লা ক্ষেত্রের উত্তর দিক থেকে প্রাথমিক বক্স-কাট খননের মাধ্যমে খনির কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হবে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০০ হেক্টর বিস্তৃতির খনন এলাকাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা ও অবকাঠামো মিলিয়ে প্রায় ২,০০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন। পুরো খনির মেয়াদকালে খনি ও সংশ্লিষ্ট কাজের প্রয়োজন হবে মোট ৫,৯৩৩ হেক্টর জমি । প্রাথমিকভাবে কয়লার উপরিস্থিত শিলাস্তর সমূহ খনি এলাকার পূর্বপার্শ্বে আচ্ছাদন শিলাস্তুপ এলাকায় জমা করা হবে। এখানে উত্তোলিত শিলাস্তর সমূহের প্রায় ২৫% জমা রাখা হবে। খনন কার্যক্রম প্রতি বৎসর প্রায় ২০০ মিটার করে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হবে এবং খনন কাজ শুরুর প্রায় ৬ বৎসর পর থেকে খনিখাদ এলাকায় কয়লা উত্তোলন শেষে আচ্ছাদন শিলা দিয়ে পুণর্ভরণ কাজ শুরু হবে। প্রায় ৭০% উত্তোলিত শিলাস্তুপ এভাবে খনিখাদের মধ্যেই জমা করা হবে। খনি উত্তর থেকে দক্ষিণে অগ্রসর হবার ধারাবাহিকতায় সম্মুখ দিকের আচ্ছাদন শিলাসমূহ অপসারণ করে কয়লা আহরণ করা হবে এবং আগে খননকৃত এলাকা আচ্ছাদন শিলাস্তূপ দিয়ে পুনর্ভরণ করা হবে। ভূমি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুনর্ভরণকৃত এলাকা এবং আচ্ছাদন শিলাস্তুপ এলাকা পর্যায়ক্রমে উর্বরকরণ ও সবুজ আচ্ছাদনে ভরে তোলা হবে।

খনির ৩৫ বছরেরও অধিক মেয়াদকালে প্রতি বছর ১৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে। কয়লা উত্তোলন ও খনির কার্যক্রম অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খননকৃত এলাকা পুনর্ভরণের মাধ্যমে পূর্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। খনির মেয়াদকাল শেষে (প্রায় তিন দশক পরে) খনির শেষাংশের খাদটি (৬৯৬ হেক্টর) পানি সরবরাহ, সেচ, বিনোদন ও মাছ চাষের জন্য একটি মিঠা পানির হ্রদে পরিণত করা হবে।