আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন ও সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে বিএইচপি মিনারেলস বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের প্রস্তাব পেশ করে। সরকার নির্ধারিত শর্তে বিএইচপি’র প্রস্তাব ৩১ জানুয়ারী ১৯৯৪ মন্ত্রীসভার বৈঠকে অনুমোদন করে ২৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪ কোম্পানীকে অবহিত করে। সে অনুমোদনের আলোকে ২০ আগষ্ট ১৯৯৪ সম্পাদিত উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নের চুক্তির ধারাবাহিকতায় বিএইচপিকে অনুসন্ধান লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
১৯৯৫-৯৭ সময়কালে উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন লাইসেন্স এলাকায় বিএইচপি কয়লা অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করে এবং ১৯৯৭ সনের জানুয়ারীতে ফুলবাড়ীতে কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিএইচপি’র কোম্পানী পুনর্গঠন ও ব্যবসা লক্ষ্য পরিবর্তনের ধারাবাহিতায় দক্ষিণ এশিয়া থেকে কোম্পানী তাদের খনিজ সম্পদ খাতে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি (নং ১১/সি-৯৪) ও বিদ্যমান খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালার অধীনে সরকারের পূর্ব অনুমোদন সহ এশিয়া এনার্জি’র কাছে বিএইচপি’র চুক্তি ও বিদ্যমান লাইসেন্স সমূহ হস্তান্তর করা হয়। এ লক্ষ্যে এক চুক্তি স্বক্ষরিত হয় ১১ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৮ সনে। এশিয়া এনার্জি তার অনুসন্ধান ও আবিষ্কৃত কয়লা ক্ষেত্রের মূল্যায়ন অব্যাহত রাখে। ১৫ আগষ্ট ২০০২ সনে সরকার এশিয়া এনার্জিকে ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্র সংলগ্ন আরও একটি অনুসন্ধান লাইসেন্স প্রদান করে।
এশিয়া এনার্জি’র ১৫ নভেম্বর ২০০০ সনে পেশকৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রের কেন্দ্রীয় লাইসেন্স এলাকাকে খনি ইজারা হিসেবে ১ এপ্রিল ২০০৪ সনে মঞ্জুর করা হয়। ইতিমধ্যে এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রের প্রাক সম্ভাব্যতা জরীপ সম্পন্ন করে। ২০০৩ সনে লাইসেন্স এলাকায় ৬টি অনুসন্ধান কুপ খননের মাধ্যমে ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করে। খনি ইজারা মঞ্জুরীর পর আরও শতাধিক কুপ খনন, বিভিন্ন ভূপদার্থিক পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
২০০৫-০৬ সনে ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রের বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ, কয়লা ক্ষেত্রের কারিগরী বাস্তবতা ও খনি উন্নয়নের সম্ভাব্য বিকল্প সমূহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি আধুনিক খনি উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা জরীপ সম্পন্ন করা হয়। এ জরীপে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয় যে, ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রে ৫৭২ মিলিয়ন টন মান সম্পন্ন উচ্চ তাপ জ্বলন ক্ষমতার বিটুমিনাস কয়লার সমৃদ্ধ মজুদ বিদ্যমান। আধুনিক উন্মুক্ত খনির মাধ্যমে এই কয়লাক্ষেত্র থেকে বছরে ১৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব, যা সস্তা, নির্ভরযোগ্য ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক জ্বালানীর দীর্ঘমেয়াদী উৎস। বাংলাদেশে প্রাথমিক জ্বালানীর একক উৎস গ্যাসের বিপরীতে এই কয়লা বিদ্যুত উৎপাদনের মুখ্য বিকল্প জ্বালানী হিসাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।