কয়লা অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নে সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির (নং - ১১/সি-৯৪) প্রধান প্রধান দিকসমূহ
- সরকার কয়লা সহ দেশের সকল খনিজ সম্পদের মালিক এবং এধরণের সম্পদের অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও উত্তোলনে উৎসাহ প্রদানে আগ্রহী।
- কোম্পানীর সঙ্গে সরকারের স্বাক্ষরিত চুক্তিটি দেশের উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান, খনি উন্নয়ন, উত্তোলন ও বিনিয়োগের একটি সমন্বিত চুক্তি। এ চুক্তির চারটি অংশ রয়েছে যার প্রথমটি অনুসন্ধান এলাকা (সফল অনুসন্ধান শেষে যা পরবর্তীতে খনি ইজারায় রূপান্তরের প্রথম অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে)। দ্বিতীয় অংশে অনুসন্ধান লাইসেন্স কার্যক্রম পরিচালনার বিস্তারিত, তৃতীয় অংশে খনি ইজারা এবং এর অধীন কার্যক্রম পরিচালনা এবং চতুর্থ অংশে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য বিনিয়োগের শর্তাবলী বিবৃত হয়েছে।
- স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরীভাবে উত্তোলনযোগ্য কয়লার সঞ্চয় ক্ষেত্রে অনুসন্ধান লাইসেন্স দেয়া হয় যা দেশের খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। যেহেতু এ চুক্তির অধীনে আবিষ্কার এলাকাসমূহকে সচেতনভাবেই অনুসন্ধান লাইসেন্স ভূক্ত করা হয়নি, সে কারণে লাইসেন্স এলাকাসমূহে অনুসন্ধান কার্যক্রম অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ।
- সর্বোচ্চ পরিবেশগত ও শ্রম নিরাপত্তার নিশ্চয়তার মাধ্যমেই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার বাধ্যবাধকতা চুক্তিতে আরোপিত হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে পরিচালিত সকল কর্মকান্ডের পরিকল্পনার পূর্বানুমতি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত ব্যবধানে সম্পাদিত কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পেশ করার বাধ্যবাধকতা আরোপিত রয়েছে।
- লাইসেন্স এলাকায় অনুসন্ধানের মাধ্যমে আবিষ্কৃত কয়লা ক্ষেত্র উন্নয়ন এবং আধুনিক, নিরাপদ, পরিবেশ ও কারিগরীভাবে টেকসই খনি উন্নয়নের বিস্তারিত শর্তাবলী বর্ণিত হয়েছে। খনি উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত কয়লা ক্ষেত্রের ব্যবহৃতব্য প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি, কারিগরী বিশেষজ্ঞ, কয়লা উত্তোলনের পরিমাণ ও তার পদ্ধতি, উৎপাদিত কয়লার বাজারজাতকরণের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, খনি উন্নয়নের সম্ভাব্য সময় ও অনুমিত ব্যয় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যাসহ সরকারের অনুমোদনের জন্য পেশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একইসাথে, সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে এবং সরকারের প্রথম অধিকারের ভিত্তিতে এই কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত কয়লার প্রয়োজনীয় পরিমাণ সরবরাহের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে।
- খনি উন্নয়নের প্রয়োজনে যে জমি ব্যবহৃত হবে তা সরাসরি ক্রয় বা সরকারের মাধ্যমে প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণ প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তা ব্যবহার করা যাবে।
- কয়লা অনুসন্ধান, খনি উন্নয়ন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশীয় আইন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান সর্বতোভাবে পরিপালনের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান সংযোজিত রয়েছে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে।
- খনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুযায়ী বাৎসরিক ফি, রয়্যালটি, ট্যাক্স ও অন্যান্য দেয় পরিশোধ করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
- স্থানীয় শেয়ার বাজারে কোম্পানী চাইলে অনুমতি সাপেক্ষে শেয়ার ইস্যু করতে পারবে।
- খনি কার্যক্রম পরিচালনার পর্যায়ক্রমিক ও ধারাবাহিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পেশ করতে হবে।
- কোম্পানীর খনি উন্নয়নের জন্য আবেদনকৃত এলাকা উপযুক্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইজারা পাবার ও তা নবায়নের অধিকার এই চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
- চুক্তি অনুযায়ী অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়ন এবং পরিচালনা পর্যায়ে কোম্পানী সর্বোচ্চ মাত্রায় বাংলাদেশী জনসম্পদ ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সামর্থ্যকে ব্যবহার ও তাদের প্রশিক্ষণ সুযোগ সৃষ্টির নিশ্চয়তা বিধান করবে।
- চুক্তির চতুর্থ ভাগে বিস্তারিতভাবে কোম্পানীর কয়লা অনুসন্ধান, খনি উন্নয়ন ও কয়লা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানী শর্তাবলী, দেয় আমদানী শুল্ক (২.৫%), দেয় রয়্যালটির হার (৬%), দেয় কর্পোরেট ট্যাক্স (৪৫%), ডিভিডেন্ড এর উপরে উইথহোল্ডিং ট্যাক্স (৫%) সহ বিনিয়োগ শর্তাবলী বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদিত কয়লা বাজারজাত করার দায়দায়িত্ব (স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে) কোম্পানীর উপরে অর্পিত হয়েছে। উৎপাদিত কয়লা বিপণনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত বিক্রয় মূল্য নিশ্চিত করার কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে যাতে করে সরকার তার সর্বোচ্চ আয় নিশ্চিত করতে পারে এবং আর্থিকভাবে লাভজনক উপায়ে খনি পরিচালিত হতে পারে।
- বিদেশী বিনিয়োগের বিদ্যমান আইনী সুবিধার অংশ হিসেবে কোম্পানী মূলধন ও লভ্যাংশ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানান্তর করতে পারবে। বিনিয়োগকারীর প্রণোদনার অংশ হিসেবে কোম্পানী ট্যাক্স হলিডে সুবিধা পাবে।
- চুক্তির এ অংশে সুনির্দিষ্টভাবে আন্তর্জাতিক মানে কোম্পানীর আয় ব্যয়ের রেকর্ড তৈরী ও তা সরকারের অবগতির জন্য পেশ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে কোম্পানী প্রদত্ত আয় ব্যয়ের হিসাব সরকারের নিজস্ব অডিট কোম্পানী নিয়োগের মাধ্যমে পরিবীক্ষণ ও যথার্থতা নিরূপণের ব্যবস্থা সন্নিবেশিত হয়েছে।