প্রকল্পের অগ্রগতি
- এশিয়া এনার্জি বিএইচপির পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-পদার্থিক অনুসন্ধানের পর আরও ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-পদার্থিক অনুসন্ধান পরিচালনা করে এবং বিদ্যমান লাইসেন্স এর পাশে এইচ (২১১২ হেক্টর) এলাকার লাইসেন্স এর জন্য আবেদন পেশ করে। এছাড়া এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রের উপর প্রাক-সম্ভাব্যতা জরীপ (প্রি-ফিজিবিলিটি ষ্টাডি) রিপোর্ট পেশ করে ২০০০ সনের ডিসেম্বরে।
- এশিয়া এনার্জি ১৫ নভেম্বর ২০০০ তারিখে লাইসেন্স এলাকা 'বি' কে চুক্তির শর্ত এবং খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালার আলোকে মাইনিং লিজ হিসেবে মঞ্জুরের আবেদন জানায়।
- এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প এলাকায় কয়লা অনুসন্ধানের জন্য পরিবেশগত সমীক্ষা পরিচালনা, অনুসন্ধান ও ড্রিলিং কার্যক্রমের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র পায় ১৪ জুলাই ২০০৩ তারিখে।
- এশিয়া এনার্জি'র আবেদনের প্রেক্ষিতে 'এইচ' এলাকার জন্য লাইসেন্স মঞ্জুর করা হয় ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপর লাইসেন্স 'বি'ও 'জি' নবায়ন করা হয় (১৫ আগষ্ট ২০০২)।
- এশিয়া এনার্জি লাইসেন্স এলাকায় ৬টি অনুসন্ধান ড্রিলিং ও জিওফিজিক্যাল লগিং সম্পন্ন করে ও রিপোর্ট পেশ করে।
- ২০০৪ সনের ১ এপ্রিল এশিয়া এনার্জি’র আবেদনকৃত 'বি' এলাকার মাইনিং লিজ মঞ্জুর করা হয় এবং পরবর্তী ২৪ মাসের মধ্যে ফিজিবিলিটি ষ্টাডি সম্পন্ন করে স্কিম অব ডেভেলপমেন্ট সরকারের কাছে পেশ করার অনুরোধ জানানো হয়।
- এশিয়া এনার্জি লিজ ও লাইসেন্স এলাকা ছাড়াও সন্নিহিত এলাকা 'আই' (১০,৩৭১ হেক্টর) ও 'টি' (১,৭৭৫ হেক্টর) এর অনুসন্ধান লাইসেন্স এবং 'ইউ' (২৮৬ হেক্টর) এর খনি ইজারার আবেদন পেশ করে যথাক্রমে ১০ মে ২০০৪, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০০৫ ও ২৬ এপ্রিল ২০০৫ তারিখে। এছাড়া এশিয়া এনার্জি বিদ্যমান লাইসেন্স 'জি' ও 'এইচ' কে খনি ইজারায় রূপান্তরের জন্য আবেদন করে ১৮ এপ্রিল ২০০৪।
- এশিয়া এনার্জি প্রকল্প এলাকায় বিস্তারিত পরিবেশগত সমীক্ষা পরিচালনা করে এবং ২৯ মার্চ ২০০৫ তারিখে পেশকৃত আইইই ও অন্যান্য কাগজপত্রের ভিত্তিতে অবস্থানগত পরিবেশগত ছাড়পত্র পায়। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ইআইএ এর ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৫ ফুলবাড়ী কয়লা খনি প্রকল্প উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং ইআইএ এর অনুমোদন পায়।
- এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা ক্ষেত্রের ভূ-পদার্থিক জরীপ ও ১০০টির বেশী ড্রিলিং ও আনুসঙ্গিক পরীক্ষা/পর্যালোচনা শেষে ৫৭২ মিলিয়ন টন কয়লার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মজুদ চূড়ান্তভাবে নিরূপণ, উন্মুক্ত পদ্ধতির কয়লা খনির ডিজাইন, অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা সহ ফিজিবিলিটি ষ্টাডি ও স্কিম অব ডেভেলপমেন্ট সম্পূর্ণ করে ২ অক্টোবর ২০০৫ তারিখে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোতে পেশ করে। পেশকৃত স্কিম অব ডেভেলপমেন্ট অনুযায়ী প্রায় ৫,৯০০ হেক্টর এলাকায় (খনি ইজারা এলাকা 'বি', অনুসন্ধান লাইসেন্স এলাকা 'জি', 'এইচ' এবং আবেদন এলাকা 'আই', 'টি' ও 'ইউ' এর অন্তর্গত) বছরে ১৫ মিলিয়ন টন বিক্রয়যোগ্য কয়লা উত্তোলনের ক্ষমতাসম্পন্ন উন্মুক্ত খনি (সারফেস মাইন বা ওপেন কাট) নির্মাণ ও পরিচালনার পরিকল্পনা পেশ করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অধিক খনির মেয়াদকাল (মাইন লাইফ) ধরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশী বিনিয়োগ ও প্রকল্প সময়কালে বাংলাদেশের ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশী রাজস্ব ও অন্যান্য আয় হবে।
- চুক্তিতে ৩ মাসের মধ্যে পেশকৃত খনি স্কীমের বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে অনুমাদনের সিদ্ধান্ত এশিয়া এনার্জিকে জানানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। চুক্তির বাধ্যবাধকতার আওতায় খনি পরিচালনার অনুমোদন এখনও পাওয়া যায়নি। এই অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষার পাশাপাশি কোম্পানী প্রকল্পের প্রস্তুতি সংক্রান্ত ও দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে।
- জ্বালানী মন্ত্রণালয় এশিয়া এনার্জি’র ফিজিবিলিটি ষ্টাডি ও স্কিম অব ডেভেলপমেন্ট পাবার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করে সারপত্র প্রেরণ করে এবং ইতিপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের আলোকে একটি কারিগরী কমিটি গঠনের অনুমোদন প্রার্থনা করে। ২০০৫ সনের ১৭ নভেম্বর বুয়েট এর অধ্যাপক ডঃ নুরুল ইসলামকে প্রধান ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মহোদয়কে সদস্য সচিব করে কারিগরী কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটি বিস্তারিত পরীক্ষা নিরিক্ষা করে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে কারিগরী মতামত সহ জ্বালানী মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পেশ করার জন্যে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়।
- উক্ত কারিগরী কমিটি তার প্রথম সভায় আরো ৩ জন সদস্যকে কো-অপ্ট করে এবং এশিয়া এনার্জি'র পেশকৃত তথ্য, স্কিম অব ডেভেলপমেন্ট পর্যালোচনার জন্যে বিভিন্ন বৈঠক করে। কমিটি ২৬-২৮ জানুয়ারী ২০০৬ সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করে।
- ২০০৬ সনের ৮ জানুয়ারী জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ বলে উক্ত কারিগরী কমিটির কার্যকাল আরো ৪৫ কার্যদিবস বৃদ্ধি করা হয়।
- ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম পদ্ধতিতে এবং বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার চলমান নির্দেশিকা অনুসরণ করে ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ (ইএসআইএ- এনভায়রনমেন্টাল এন্ড সোস্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) সম্পন্ন করা হয়েছে। ইএসআইএ চূড়ান্ত করা হয়েছে মূল খনি প্রকল্প (এপ্রিল ২০০৬) এবং কয়লা পরিবহণ (জুন ২০০৬) উভয় কর্মকান্ডের জন্যে। এই প্রতিবেদনে কয়লা খনি প্রকল্পের বিভিন্ন ধরণের পরিবেশগত প্রভাব ও সেগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার পাশাপাশি পুনর্বাসন পরিকল্পনা, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মতবিনিময় ও অবহিতকরণ পরিকলপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- এশিয়া এনার্জি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কাজের শুরু থেকে (২০০৪ সালের শুরু থেকে) পরিবেশগত পরিবীক্ষণ কর্মসূচী চালু রেখেছে এবং তা প্রকল্পের গোটা মেয়াদকালব্যাপী চালু থাকবে। এ কর্মসূচী থেকে অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরে প্রতিমাসে পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানি শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমের জন্য জীববৈচিত্র্য পরিবীক্ষণ কর্মসূচীও পরিচালনা করে যাচ্ছিল। সেপ্টেম্বর ২০০৬ থেকে এ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
- এশিয়া এনার্জি প্রকল্প সম্পর্কে খোলামেলা ভাবে তথ্য সরবরাহের জন্য এপ্রিল ২০০৫ থেকে ফুলবাড়ীতে একটি তথ্যকেন্দ্র চালু করে। ২৪ আগষ্ট ২০০৬ পর্যন্ত স্বপ্রণোদিত হয়ে মোট ৩৯০৭ জন এ তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রকল্প সংক্রান্ত নানা জিজ্ঞাসা অবহিত হয়েছে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হলে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
- এশিয়া এনার্জি ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প সর্বোত্তমভাবে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং আশা করে যে খুব শীঘ্রই খনি উন্নয়ন পরিকল্পনার অনুমোদন পাওয়া যাবে। ফুলবাড়ী খনি উন্নয়ন কাজ শুরু করার জন্য এই কোম্পানী পুরো প্রস্তুত।