পটভূমি
- ১৯৮৬ সনের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও উন্নয়নের জন্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক উটাহ ইন্টারন্যাশনাল আইএনসি প্রথম বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রস্তাব পেশ করে। পরবর্তীতে বিএইচপি মিনারেলস্ ইন্টারন্যাশনাল ইনকরপোরেটেড এর সাথে উটাহ ইন্টারন্যাশনাল একীভূত হয়ে যায়।
- ১৯৮৭ সনের ৪ ফেব্রুয়ারী পরিকল্পনা কমিশন প্রস্তাবিত চুক্তির প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে দেশে খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আলোচনা শুরুর জন্য জ্বালানী মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায়।
- ১৯৯১ সনের ১৭ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএইচপি-উটাহর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশন, জিএসবি, পেট্রোবাংলা, রেলপথ বিভাগ, নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এর সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনার ফলাফলসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবটি অবগতির জন্য প্রেরিত হয় যা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেন।
- ১৯৯২ সনের ১৮ অক্টোবর মাননীয় অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান অষ্ট্রেলিয়া সফরকালে মেলবোর্নে বিএইচপি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেন এবং বিএইচপি’র বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে বিএইচপি’র ইতোপূর্বে পেশকৃত (১৯৯২ এর ১৫ সেপ্টেম্বর) কয়লা অনুসন্ধান, উত্তোলন ও আর্থিক শর্তাবলী সম্পর্কিত বিষয় যেমন রয়্যালটি, ট্যাক্স, আমদানী শুল্ক, অফশোর একাউন্ট, স্ট্যাবিলিটি অব ফাইন্যান্সিয়াল টার্মস, খনি ও অবকাঠামো উন্নয়ন সহ বিস্তারিত আর্থিক প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
- ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন দুতাবাসের মাধ্যমে সরকার ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, মালি, তানজানিয়া, সেনেগাল, উরুগুয়ে, চিলি, আইভরি কোষ্ট সহ বিভিন্ন দেশে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদনে রয়্যালটি, ট্যাক্স, ট্যাক্স হলিডে সহ অন্যান্য বিনিয়োগ সুবিধা, মাইনিং আইন ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে।
- ১৯৯২ সনের ২২ নভেম্বর মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে বিএইচপি মিনারেলস্ এর প্রস্তাবিত চুক্তির প্রস্তাবাবলী ও শর্তসমূহ আলোচনার জন্য এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় চুক্তির বিভিন্ন শর্তাদি বিস্তারিত আলোচনা ও বিভিন্ন দেশের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। বিএইচপি’র প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সরকার ও দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ লাভ ও প্রভাব চিহ্নিত করা হয়।
- ১৯৯৩ সনের ৪ ফেব্রুয়ারী বিএইচপি’র প্রস্তাব আলোচনার জন্য অর্থ ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিতে আলোচিত হয়। বিএইচপি ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য কোম্পানীর নিকট হতে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য প্রস্তাব আহবানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- সে প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের লন্ডন, ওয়াশিংটন, বন, বেইজিং, ক্যানবেরা ও ব্রাসেলস দুতাবাসসমূহের মাধ্যমে খ্যাতনামা কয়লা কোম্পানী সমূহের কাছে প্রস্তাব আহবান করে যোগাযোগ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা পত্রিকা "দি ইকোনমিষ্ট" ও "ফার ইষ্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ" পত্রিকায় ১৯৯৩ সনের এপ্রিল মাসে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আগ্রহী কোম্পানীর প্রস্তাব আহবান করে সরকার বিজ্ঞাপন প্রচার করে।
- দূতাবাসসমূহ বিএইচপি ছাড়া অন্য কোন "অফার" পায়নি। একইভাবে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতেও কোন প্রস্তাব বা অফার পাওয়া যায়নি।
- ইতিমধ্যে ইউএনডিপি’র মাধ্যমে সরকার বিএইচপি’র প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণের উদ্যোগ নেয় এবং "ইউনাইটেড নেশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনোমিক এন্ড সো্স্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএনডিইএসডি)" সংস্থার আন্তর্জাতিক "পেট্রোলিয়াম এন্ড মিনারেল লেজিসলেশন" বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিয়ে বিএইচপি’র প্রস্তাব ও শর্তাবলী, প্রসপেক্টিং লাইসেন্স, মাইনিং লিজ ও ইনভেষ্টমেন্ট এগ্রিমেন্ট এর ওপরে পর্যালোচনা ও মন্তব্য সংগ্রহ করে। এ মতামতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ জাতীয় চুক্তির শর্তাবলীর সাথে বিএইচপি’র চুক্তির তুলনামূলক পর্যালোচনা রিপোর্ট পেশের মাধ্যমে ইউএনডিইএসডি বিশেষজ্ঞ ডায়ানা ডাল্টন তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি তার মন্তব্যে কয়লার রয়্যালটি হার সাধারণভাবে ১-৩%, কোম্পানী কর ৩০-৩৫% বলে মত দেন এবং রয়্যালটি, কোম্পানী কর, শুল্ক ও করের হার চুক্তিতে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং বিএইচপি’র প্রস্তাব সরকারের জন্য অনুকূল বলে মত প্রকাশ করেন।
- ১৯৯৩ সনের ২৯ আগষ্ট সংগৃহীত তথ্যসহ বিএইচপি’র প্রস্তাব ও চুক্তির শর্তাবলী অনুমোদনের জন্য পুনরায় অর্থ ও অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রীসভা কমিটিতে প্রেরণ করা হয় এবং কমিটি আরও একদফা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অফার সংগ্রহ ও চুক্তির শর্তাবলী অনুমোদনযোগ্য বলে মত দেন।
- সে প্রেক্ষিতে ১৯৯৩ সনের ৯ ও ২১ অক্টোবর বাংলাদেশে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাব চেয়ে ‘দি ইকোনমিষ্ট’ ও ‘ফার ইষ্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ’ পত্রিকায় আবারও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য এবারও কোন প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।
- ১৯৯৩ সনের ২৯ আগষ্ট অর্থ ও অর্থনৈতিক কমিটির অনুমোদন, সংগৃহীত আন্তর্জাতিক কয়লা খনি সম্পর্কিত তথ্য, সরকারের প্রকাশিত দু’দফা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন ও তার ফলাফল সহ বিস্তারিত তথ্য জ্বালানী মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলন সংক্রান্ত (সারফেস মাইনিং) বিএইচপি মিনারেলস্ এর প্রস্তাব বিবেচনার নিমিত্তে মন্ত্রীসভার জন্য ১৯৯৪ সনের ৪ জানুয়ারী সারসংক্ষেপ তৈরি করে পাঠানো হয়। ১৯৯৪ সনের ৩১ জানুয়ারী তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে উক্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় এবং মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএইচপি’র সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের আগে অর্থ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
- জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি বিএইচপি’র সাথে চূড়ান্ত আলোচনার পর ১২ এপ্রিল ১৯৯৪ তারিখে বিএইচপি’র সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে কয়লা অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নের জন্য চুক্তি অনুস্বাক্ষর করে।
- প্রয়োজনীয় ভেটিং সংগ্রহ করার পর ১৯৯৪ সনের ২০ আগষ্ট জ্বালানী মন্ত্রণালয়ে বিএইচপি’র সাথে সরকারের চুড়ান্ত চুক্তি সম্পাদিত হয়।
- চুক্তির আলোকে এবং বিএইচপি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে দিনাজপুর ও রংপুর জেলাধীন ‘এ’ ‘বি’ ও ‘সি’ এলাকার জন্য (মোট ১৪,১২০ হেক্টর) অনুসন্ধান লাইসেন্স জারী করা হয়।
- বিএইচপি ভূ-পদার্থিক জরীপ শেষে ‘বি’ (১,৯২১ হেক্টর) এলাকা ছাড়া অপর দুটি লাইসেন্স পরিত্যাগ করে। পরবর্তীতে ‘বি১’ ‘ডি’, ‘ই’, ‘এফ’ এলাকার লাইসেন্স আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়। অনুসন্ধান পর্যায়ে বিএইচপি ফুলবাড়ীতে কয়লা আবিষ্কার করে ১৯৯৭ সনের জানুয়ারীতে। অনুসন্ধান ড্রিলিং শেষে বিএইচপি ‘বি’ (১৯২১ হেক্টর) এলাকা ছাড়া অপর এলাকাসমূহ পরিত্যাগ করে এবং ‘জি’ (৭,২৭৩ হেক্টর) এলাকার লাইসেন্সের জন্য ১৯৯৭ সনের ৯ জানুয়ারী আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়।
- বিএইচপি অনুসন্ধান রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দেয় এবং বাংলাদেশ থেকে তার কার্যক্রম গুটিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত জানায়। একই সাথে বিদ্যমান চুক্তি (ধারা-১১) এবং খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা (ধারা-১২, ১৩) অনুযায়ী অষ্ট্রেলিয়ার কোম্পানী এশিয়া এনার্জি কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) প্রপ্রাইটরি লিমিটেড এর নিকট বিদ্যমান চুক্তি ও লাইসেন্স সমূহ হস্তান্তর করার আবেদন জানালে সরকার তা অনুমোদন করে। এ মর্মে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং গ্রহণ করা হয়।
- ১৯৯৮ সনের ১১ ফেব্রুয়ারী অষ্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএইচপি’র লাইসেন্স ও চুক্তি এশিয়া এনার্জি’র নিকট হস্তান্তরের অ্যাসাইনমেন্ট এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হয়।