এশিয়া এনার্জি ১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রস্তাব করেছে, যার প্রথম অংশ হিসেবে ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। পরে এটি ২,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চালাতে প্রতি বছর ৩ মিলিয়ন টন তাপীয় কয়লার প্রয়োজন হবে, যা ফুলবাড়ীতে উৎপাদিত কয়লার এক পঞ্চমাংশ । এছাড়া ফুলবাড়ী খনির মাধ্যমে সস্তা ও সহজলভ্য জ্বালানীর নিশ্চিত সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দেশের চাহিদা অনুসারে আরও বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মিত হবে। উৎপাদন শুরুর আট বছরের মধ্যে খনির পূর্ণ উৎপাদনের এই প্রস্তাবিত প্রকল্প প্রাকৃতিক গ্যাস, আমদানীকৃত তেল ছাড়াও বিকল্প জ্বালানী হিসাবে দেশে মজুদ প্রাকৃতিক সম্পদ-কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশের বিদ্যমান মারাত্মক বিদ্যুৎ সমস্যা বহুলাংশে লাঘব করবে।
কোম্পানী প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে জাতীয় এবং পরিবেশগত নির্গমন সীমা মেনে চলার জন্য আধুনিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
বিদ্যুতের স্বল্পতা এবং অনিয়মিত সরবরাহকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারী তথ্য অনুসারে, দেশের ১৪০ মিলিয়ন জনগোষ্ঠীর প্রতি তিন জনের একজন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫,৪০০ হলেও গড়ে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে ৩,৭০০ মেগাওয়াটের মতো। ২০১১ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ চাহিদা ৮,০০০ মেগাওয়াট এর বেশি হবে মহাপরিকল্পনার আলোকে ধারণা করা হয়। দেশের ৮০ ভাগের বেশি বিদ্যুৎ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত হচ্ছে, কিন্তু দ্রুত নিঃশেষিত গ্যাস মজুদের কথা মাথায় রেখে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।