| প্রকল্পের নাম | ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প। |
| প্রকল্পের অবস্থান | প্রকল্প এলাকা ঢাকা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে এবং দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী, নওয়াবগঞ্জ, বিরামপুর ও পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত।
ফুলবাড়ী একটি ছোট শহর যা জাতীয় প্রধান সড়ক ও উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলীয় রেলওয়ের সাথে যুক্ত এবং এর ৪০ কিলোমিটার উত্তরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর অবস্থিত। ফুলবাড়ী থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত পার্বতীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলজংশন এবং এর সঙ্গে বাংলাদেশের সব বড় শহরসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রেল সংযোগ রয়েছে। প্রকল্প এলাকাটি বরেন্দ্র অঞ্চলে অবস্থিত, যা একটি উঁচু মালভূমি এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের ২৫-৩২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। বরেন্দ্র এলাকার তুলনামূলক উঁচু ভূ-প্রকৃতির কারণে প্রকল্প এলাকা সাধারণভাবে বন্যামুক্ত। এই এলাকায় তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং শীতকালে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস, মে মাসের শেষদিক থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভারী ধরনের বৃষ্টিপাত হয়। বছরে গড় বৃষ্টিপাত ১,৮০০ মিলিমিটার। |
| প্রকল্প উদ্যোক্তা | এশিয়া এনার্জি করপোরেশন (বাংলাদেশ) প্রপ্রাইটরি লিঃ, যা লন্ডন ভিত্তিক জিসিএম রিসোর্সেস পিএলসি’র (জিসিএম) বাংলাদেশী সাবসিডিয়ারী। |
| চুক্তি | কয়লার অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নের জন্য এশিয়া এনার্জি এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত রয়েছে (চুক্তি নং-১১/সি-৯৪)। |
| লাইসেন্স/ইজারা | এশিয়া এনার্জি মূল কয়লা সম্পদ এলাকার খনি ইজারা এবং তদ্সংলগ্ন অন্যান্য এলাকার অনুসন্ধান লাইসেন্স পেয়েছে (বর্তমানে তা খনি ইজারায় রূপান্তরের জন্য আবেদনকৃত ও বিবেচনাধীন রয়েছে)। |
| বর্তমান অবস্থা | দু-বছরব্যাপী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে খনি উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। এশিয়া এনার্জি আশা করে শীঘ্রই খনি উন্নয়ন পরিকল্পনার অনুমোদন পাওয়া যাবে এবং সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। |
| প্রকল্পের ধরণ | কয়লা খনি। |
| খনি পদ্ধতি | উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি। |
| কয়লা | বিটুমিনাস জাতীয় কয়লা (উচ্চ তাপমান সম্পন্ন, অল্প ছাই ও অল্প সালফার যুক্ত)- তাপীয় (থারমাল) ও সেমিসফট কোকিং কয়লা (মেটালারজিক্যাল)। |
| মোট কয়লা সম্পদের মজুদ | ৫৭২ মিলিয়ন টন। |
| বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতা | ১৫ মিলিয়ন টন। |
| কয়লার ব্যবহার | দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্পকারখানা, ইটের ভাটা, এবং ব্রিকেট হিসেবে গৃহস্থালীসহ অন্যান্য কাজে। |
| সহ-সম্পদ | কাঁচবালি, নুড়িপাথর, চীনামাটি (কেওলিন), পানি। |
| প্রকল্পের মেয়াদ | ৩৫ বছরেরও বেশী। |
| মোট বিনিয়োগ | সরকারের কাছে জমাকৃত খনি উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী খনির মেয়াদকালে মোট মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যার অর্ধেকের বেশী খনি উন্নয়নের প্রথমদিকে ব্যয় হবে। পাশাপাশি খনির মেয়াদকালে পরিচালন ব্যয় হিসেবে আরও ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। |
| প্রকল্পের সময়সূচী | সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে ভৌত খনি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে যতো দ্রুত সম্ভব বিদ্যুত উৎপাদনসহ দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে কয়লা উত্তোলন করা। আশা করা হচ্ছে ভৌত খনি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরুর ৩ বছরের মধ্যে প্রথম কয়লা পাওয়া যাবে। |
| প্রকল্প এলাকা | দিনাজপুর জেলার ৪ টি উপজেলা ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর এর অধীন ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অংশ বিশেষ প্রকল্প এলাকার ভিতরে অবস্থিত। |
| প্রকল্পের মোট প্রয়োজনীয় জমি | খনির মেয়াদকালে প্রায় ৫,৯৩৩ হেক্টর জমির প্রয়োজন হবে। তবে প্রকল্পে জমির ব্যবহার হবে পর্যায়ক্রমিক। খনি উন্নয়নের কোন পর্যায়েই প্রকল্পভুক্ত জমির এক তৃতীয়াংশের বেশী ব্যবহৃত হবে না। |
| ফুলবাড়ী শহর | পৌরসভা ঠিক থাকবে তার পুনঃনির্ধারিত সীমানা নিয়ে। পূর্ব ফুলবাড়ী শহরের খুব সামান্য অংশ খনির ভিতরে পড়বে এবং একটি নতুন শহর ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম পাশে বিদ্যমান পশ্চিম ফুলবাড়ীর বর্ধিতাংশরূপে গড়ে উঠবে। |
| জনগোষ্ঠীর স্থানান্তর ও পুনর্বাসন | প্রকল্পের মেয়াদকালে প্রায় ৪০,০০০ ব্যক্তিকে (দশ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে) স্থানান্তরের প্রয়োজন হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের তাদের পছন্দ অনুযায়ী নতুন সম্প্রসারিত শহর অথবা নতুন উন্নত গ্রামে পুনর্বাসন করা হবে, যেখানে শিক্ষা, চিকিৎসা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ উন্নত সকল নাগরিক সুযোগসুবিধাই থাকবে। |
| ক্ষতিপূরণ ও জীবিকা | প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জমি, সম্পদ ও জীবিকার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জীবিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, কৃষি, ব্যবসাসহ বিকল্প জীবিকা উন্নয়ন উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করা হবে। তাদের কেউ বর্তমানের অবস্থা থেকে খারাপ অবস্থানে যাবে না বরং অধিকাংশের অবস্থা হবে উন্নততর। |
| খনি পুনর্বাসন | উন্মুক্ত খনি ক্রমান্বয়ে ভরাট করে আগের উৎপাদনশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে; শেষাংশে খাদটি স্থানীয় জনগোষ্ঠির পানি সরবরাহ, বিনোদন ও মৎস্যচাষের জন্য একটি মিঠা পানির লেকে রূপান্তর করা হবে। |
| পানি ব্যবস্থাপনা | খনি উন্নয়নকালে খনিখাদ শুঙ্ক রাখা এবং কাজের নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য খনি এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করতে হবে। এ প্রভাব মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও বসতবাটিতে পানি সরবরাহ করা হবে। নতুন শহর এবং বিদ্যমান ফুলবাড়ী শহর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। আশুরার বিলের প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক আবাস সংরক্ষণের জন্যও ছোট যমুনা নদী ও খারির পুলে প্রয়োজনীয় পানি প্রবাহিত করা হবে। এতে প্রকল্প এলাকায় পানির অভাব হবেনা এবং প্রকল্পের কারণে কোন এলাকা শুকিয়েও যাবেনা। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত পৃথক সমীক্ষা করা হয়েছে। |
| পরিবেশ | পরিবেশগত প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রশমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হবে এবং শব্দ, ধূলা ও বর্জ্যপানি গ্রহণযোগ্য মানমাত্রার ভিতরে রাখা হবে। পরিবেশগত সকল উপাদান সবসময় পর্যবেক্ষণাধীন থাকবে এবং খনির মেয়াদকালে সকল কার্যক্রম যাতে পরিবেশগতভাবে গ্রহণযোগ্য মাত্রার ভিতরে থাকে তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। |
| বাংলাদেশ সরকারের লাভ/প্রাপ্তি | সরকারের আর্থিক বিনিয়োগ ও ঝুঁকি শূন্য। মুনাফার প্রায় ৫০% প্রাপ্তি ছাড়াও (এর অন্তর্ভুক্ত ৬% রয়্যালটি, ৪৫% কর্পোরেট ট্যাক্স এবং ২.৫% আমদানী শুল্ক) অন্যান্য সুফলের মধ্যে রয়েছে দেশে একটি সহজলভ্য দীর্ঘ মেয়াদী নতুন জ্বালানী শক্তির উৎস, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন, নতুন শিল্প, নতুন যোগাযোগ অবকাঠামো, সম্ভাবনাময় সহযোগী শিল্পের বিকাশ, চাকুরীর সুযোগ সৃষ্টি, আঞ্চলিক উন্নয়ন, এবং দারিদ্র বিমোচন। এসব প্রাপ্তি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। |